Thursday , July 31 2014
আফগানিস্থানকে দাপটের সাথে হারিয়ে টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুভসূচনা
Shakib Al Hasan scored 10* runs and takes 3 wickets

আফগানিস্থানকে দাপটের সাথে হারিয়ে টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুভসূচনা

গত কয়েকটা মাস যে বাংলাদেশ দলকে সবাই দেখেছে আজ আফগানিস্থানের বিপক্ষে যেন তার বিপরীত এক দলকেই দেখা গেলো। দুর্দান্ত ফিল্ডিং, অসাধারণ বোলিং, দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং এবং সুন্দর টিম স্পিরিটেপূর্ণ বাংলাদেশ দলকে আজ পাওয়া গেলো আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটিতে। আর সবক্ষেত্রে ভালো পারফর্মেন্স করায় বাংলাদেশ আজ অনেকটা হেসেখেলে হারায় আফগানদের। আফগানিস্থানের বিপক্ষে ৯ উইকেটের জয়লাভটা যেন সে ব্যাপারটাই প্রমাণ করে।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টি২০ বিশ্বকাপ ’১৪ এর প্রথম ম্যাচের টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মুশফিক। বোলিংয়ের বাংলাদেশের শুভ সূচনা এনে দেন ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরা বাংলাদেশের সফলতম পেসার মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রথম ওভারের প্রথম বলেই ওপেনার শাহজাদকে(০) মাহমুদল্লাহর দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরে ফেরান তিনি। এরপর নাজিব তারকাই ও গোলাবদিন নাঈব মিলে আফগানদের ইনিংস গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। কিন্তু আবারো হানা দেন বাংলাদেশের বোলাররা। এবার আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। সাকিব তার দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে গোলাবদিনকে(২১) সাব্বিরের হাতে বন্দি করে সাজঘরের পথ দেখান।  আফগানদের স্কোর তখন ২ উইকেটে ৩৬ রান। এই ৩৬ রানের ঘরে থাকা অবস্থায়ই আফগানরা হারায় তিন উইকেট। গোলাবদিনের পতনের পর থেকে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে আর দাঁড়াতে পারেনি আফগান ব্যাটসম্যানরা। সাকিবের ঘূর্ণিজাদুতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় আফগান শিবির। গোলাবদিনকে আউট করার পরের বলেই সাকিব ফিরিয়ে দেন ওপেনার নাজিব তারাকাইকে (৭) আর এর পরবর্তী বলেই রাঙ আউট হয়ে শূণ্য রানে ফেরেন সদ্য ক্রিজে আসা নাওরোজ মঙ্গল। সাব্বিরের দুর্দান্ত থ্রোতে রানআউট হোন তিনি। আফগানদের স্কোর ৩৬ রানে দুই উইকেট থেকে দাঁড়ায় ৩৬ রান ৪ উইকেট।

 

Shakib Al Hasan scored 10* runs and takes 3 wickets

Shakib Al Hasan scored 10* runs and takes 3 wickets

 

বাংলাদেশের স্পিনথাবায় লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়া আফগানদের ইনিংসকে আবারো মাথা তুলে দাঁড় করানোর জন্য চেষ্টা করেন অধিনায়ক নবী ও করিম সাদিক। কিন্তু তাদের সেই সুযোগ দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। দলীয় ৪৯ রানে নবীকে এলবিডব্লিউর জালে আটকে ফেলেন আব্দুর রাজ্জাক। আর দলীয় ৫৮ রানে করিম সাদিককে রান আউট করেন ফরহাদ রেজা। আফগানদের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৫৮ রান।   দলীয় ৬৯ রেনে থাকা অবস্থায় আরো দুই উইকেট হারায় আফগানরা। সামিউল্লাহকে(১)এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন রাজ্জাক, অন্যপ্রান্তে থাকা শফিকুল্লাহকে(১৬) ফেরান মাহমুদল্লাহ। স্কোর কার্ডে আরো ৩ রাঙ যোগ কজরতেই শেষ দুই উইকেট হারায় আফগানরা। দাওলাত যাদরানকে ১ রানে ফেরান ফরহাদ রেজা। আর আফগান শিবিরের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেন সাকিব আল হাসান শাপুর যাদরানকে বোল্ড করার মাধ্যমে। আফগানরা ১৭.১ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে তুলে ৭২ রান। সাকিব আল হাসান ৩ ওভার এক বলে মাত্র ৮ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। তাছাড়া আব্দুর রাজ্জাক ৪ ওভারে ২০ রাঙ দিয়ে নেন ২ উইকেট। মাশরাফি, মাহমুদুল্লাহ ও ফরহাদ রেজা নেন একটি করে উইকেট।

৭৩ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম থেকেই ব্যাট চালিয়ে খেলতে থাকেন ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরা তামিম ইকবাল। তাকে অন্যপ্রান্ত থেকে সাপোর্ট দেন আনামুল হক বিজয়। তাদের দুজনের চোখধাঁধানো শটে মেতে ওঠেন দর্শকরা। দলীয় ৪৫ রানে সামিউল্লাহ সেনওয়ারির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তামিম ইকবাল। দুই চারের বিনিময়ে তিনি করেন ২১ রান। তামিমের আউটের পর ক্রিজে আসে সাকিব। কিন্তু তাকে খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি। কারণ উইকেটের অন্যপ্রান্তে থাকা বিজয় শেষের দিকের রানগুলো দ্রুত গতিতে তুলে নেন। দশম ওভারে আফতাব আলমের ওভারে তিনটি চার মারেন আনামুল। বিজয়ী রানটিও আসে তার ব্যাট থেকে। সেনওয়ারির বলে চোখধাঁধানো ছয় মেরে বাংলাদেশকে বিজয়ের আনন্দে ভাসান আনামুল। একইসাথে নিজের নামের প্রতিও যেন সুবিচার করলেন তিনি, কারণ তার নামের শেষেও যে রয়েছে বিজয়!

ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হোন ৮ রানে ৩ উইকেট নেয়া এবং ব্যাটিংয়ে ১০ রানে অপরাজিত থাকা বাংলাদেশী অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ নেপালের সাথে আগামী ১৮ ই মার্চ অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামে।

—-

মনসুর আলী জিসান

প্রতিবেদক

Tigercricket.com.bd