Thursday , October 2 2014
পাকিস্তানের বিপক্ষেও বিবর্ণ বাংলাদেশ

পাকিস্তানের বিপক্ষেও বিবর্ণ বাংলাদেশ

প্রতিটা ক্রিকেট দলকেই একটা খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও যেন বর্তমানে সেটাই ঘটছে। তা নাহলে গতবছরও যে দলটার পারফরম্যান্স ছিলো চোখ ধাঁধানো, তাদের কেন আজ এই বিবর্ণ রুপ। ২০১৪ সালের শুরু থেকেই বাংলাদেশকে একের পর এক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। বিশ্বকাপের কোয়ালিফাইং রাউন্ডে নেপাল আর আফগানদের বিপক্ষেই শুধুমাত্র জয় আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের, তবে সেখানেও আছে কলংক, হংকংয়ের কাছে পরাজয়ের কলংক। শ্রীলংকার সাথে সিরিজ, এশিয়া কাপ সবকিছুতেই বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিলো হতাশা জাগানিয়া। আর এই ‘ধারাবাহিকতা’ বজায় রইলো টি২০ বিশ্বকাপের পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিতেও।

মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক হাফিজ। মিরপুরের ব্যাটিংবান্ধব পিচে শুরু থেকেই  বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন কামরান আকমল ও আহমেদ শেহজাদ। বাংলাদেশের সেরা পেসার মাশরাফি মর্তুজাকেও সাধারণ পর্যায়ে নামিয়ে আনেন ব্যাটসম্যানরা, বিশেষ করে আহমেদ শেহজাদ। মাশরাফির দ্বিতীয় ওভারে আহমেদ শেহজাদ তিনটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান। চতুর্থ ওভারে আব্দুর রাজ্জাক বোলিংয়ে এসেই সাজঘরে ফেরান কামরান আকমলকে (৯) জিয়ার অসাধারণ ক্যাচে আকমল আউট হবার সময় পাকিস্তানের স্কোর ছিলো ৪৩ রান।

কামরান আকমলের আউটের পর ক্রিজে আসেন মোহাম্মদ হাফিজ। পাকিস্তানের রানের গতি কমতে থাকে। অষ্টম ওভারে আবারো আঘাত হানেন রাজ্জাক। স্টাম্পিংযের ফাঁদে ফেলে আউট করেন মোহাম্মদ হাফিজকে।

ব্যাটিংযে আসেন উমর আকমল। কিন্তু তাকে থিতু হতে দেননি মাহমুদুল্লাহ। তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ দিয়ে শূন্যরানেই সাজঘরে ফেরেন উমর। পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৭১ রান। এদিকে উইকেটের পতন একদিকে চলতে থাকলেও আরেকদিক আগলে রেখে খেলছিলেন শেহজাদ। কোনোরকম সুযোগ না দিয়েই অর্ধশত অতক্রম করেন তিনি। অর্ধশরতকের পর আরো ভয়ংকর রুপ ধারণ করেন এই ওপেনার। ১২ তম জিয়াকে তুলোধুনো করেন তিনি দুটি চার ও দুটি ছক্কা মেরে। ঐ ওভারে পাকিস্তান নেয় ২২ রান। এরপর থেকে চধারাবিকভাবে চলতে থাকে শেহজাদের ঝড়। শোয়েব মালিকের সাথে চতুর্থ উইকেট জুটিতে শেহজাদ দলীয় স্কোরে যোগ করেন ৮৩ রান। ১৭ তম ওভারে সাকিবের স্পিনে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন শোয়েব মালিক (২৬) তবে একই ওভারে শোয়েব মালিকের আউটের আগে শেহজাদ ইজের প্রথম টি২০ সেঞ্চুরী পান মাত্র ৫৮ বল খেলে। তিনিই টি২০ ক্রিকেটে সেঞ্চুরী করা প্রথম পাকিস্তানী ক্রিকেটার।

১৮ তম ওভারে শেহজাদ ও আফ্রিদি মাশরাফি মররুজার ওপর ঝড় বইয়ে দেন। এরইমধ্যে আবার নো বল দিয়ে আফ্রিদিকে ফ্রি হিটের সুযোগ করে দেন মাশরাফি। ফ্রি হিটে ছক্কা হাকাঁতে ভুল করেননি আফ্রিদি। ঐ ওভারে ঐ ওভারে পাকিস্তান তিন ছয় ও এক চারে ২৪ রান সংগ্রহ করে। ১৯ তম ওভারের চতুর্থ বলে আফ্রিদিকে ফেরান আল আমিন। ২০ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ১৯০ রান ৫ উইকেটে। আহমেদ শেহজাদ ১১১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন।

১৯১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশ ভালোই সূচনা করে। প্রথম ওভারে হাফিজকে চার মারেন তামিম। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওভারেও একটি করে চার হাঁকান বাংলাদেশের ওপেনাররা। কিন্তু চতুর্থ ওভারে উমর গুলের ওভারে স্টাম্প থেকে সামনে এগিয়ে শট খেলতে গিয়ে বোল্ড আউট হোন তামিম (১৬) পঞ্চম ওভারে সাঈদ আজমলের বলে আনামুল(১৮) আউট হলে বড়সড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ দল। রানরেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। অষ্টম ওভারে শহীদ আফ্রিদির বলে কামরান আকমলের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র চার রানের এরেন শামসুর রহমান। ক্রিজে আসেন দলনেতা মুশফিক। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হোন। জুলফিকার বাবরের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন মুশফিক। সাকিব আল হাসান ও নাসির হোসেন বিধ্বস্ত বাংলাদেশ ইনিংসকে ওপরে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রথমদিকে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় তাদের দুজনের কেউ শট খেলার সাহস পাচ্ছিলেন না। ১১ তম ওভারে বাবরের দুই বলে পরপর দুটি ছক্কা হাঁকান সাকিব আল হাসান। এর দু ওভার কোনো বাউন্ডারি মারতে পারেনি বাংলাদেশ। এদিকে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রানরেট পাহাড়সম হতে থাকে। উমর গুলের ১৪ তম ওভারে পরপর দুটি চার মারার পর তৃতীয় বলে শোয়েব মালিকের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে বসেন সাকিব। কিন্তু শোয়েব মালিক ক্যাচ ফেলে দেয়ায় বেঁচে যান সাকিব। কিন্তু এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি সাকিব। এর দু বল পরেই উমর আকমলের হাতে ক্যাচ দিয়ে উমর গুলের শিকার হোন তিনি। আউট হবার আগে দুটি চার ও দুটি ছয়ের সাহায্যে সাকিব করেন ৩৮ রান। ১৬ ওভারে যেখানে পাকিস্তানের স্কোর ছিলো ১৫০ রান, বাংলাদেশের স্কোর তখন ছিলো ১০০ রান।

সাকিবের পর ক্রিজে আসেন মাহমুদুল্লাহ। নাসির ধীরে ধীরে হাত খুলে খেলা শুরু করেন। ১৫ তম ওভারে আফ্রিদির বলে দুর্দান্ত ছক্কা হাঁকান তিনি। ১৬ তম ওভারে সাঈদ আজমলের বোলে স্টাম্পিং হোন নাসির। নাসিরের ২৩ রানের ইনিংসে ছিলো এক চার ও এক ছয়। এরপরের ওভারে জিয়াউর রহমানকে শূন্য রানে ফেরান উমর গুল। শেষদিকে মাশরাফি চার মেরে দর্শকদের মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফোটান। ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ১৪০ রান সাত উইকেটের বিনিময়ে। পাকিস্তান ৫০ রানের ব্যবধানে জয় পায়। আর সেইসাথে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়ার আশার মৃত্যু ঘটে।

ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হোন সেঞ্চুরিয়ান আহমেদ শেহজাদ।

১লা এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ তাদের শেষ ম্যাচটি খেলবে।

 

মনসুর আলী জিসান

প্রতিবেদক

 

Tigercricket.com.bd